Dark Mode Light Mode
কুরআন ও মুমিন জীবন
ভালো কাজ করে বাহাদুরি প্রকাশ এক গর্হিত মন্দ কাজ

ভালো কাজ করে বাহাদুরি প্রকাশ এক গর্হিত মন্দ কাজ

আমাদের মধ্যে যদি এ চিন্তা চলে আসে অমুক দ্বীনি কাজ বা কোনো উন্নয়ন আমাদের দ্বারা হয়েছে বা হচ্ছে, আর আমরা সেগুলো নিয়ে বাহাদুরি প্রকাশ করি—সেটা নিশ্চয়ই একটা গর্হিত কাজ ও ভয়ের ব্যাপার।

ভালো কাজ আমাদের দ্বারা অনেক হতে পারে। এতে হয়ত আমরা আনন্দিতও হই। অথচ আমাদের সে কাজ বা আমলগুলো কবুল হয়েছে—এমন খবর আমরা পাইনি। অবশ্য নেক কাজ করে আনন্দিত হওয়া দোষের কিছু নয় বরং (হাদীসে আছে) তা ঈমানের আলামত। হাদীসে নেক কাজ করে অন্তরে আনন্দ অনুভব করার কথা বলা হয়েছে, ভেতরে বা প্রকাশ্যে অহমিকা প্রকাশের কথা বলা হয়নি!

যেকোনো (ভালো) কাজ করার পেছনে আল্লাহকে খুশি করার উদ্দেশ্যই মূল। এ বিশ্বাসই মূল যে, এ ভালো কাজের বিনিময় আমাকে আল্লাহ দেবেন—এই দোআ ও প্রত্যাশা কেবল আল্লাহর কাছে করব। যদি অন্য কারু থেকে কিছু লাভের আশা থাকে তাহলে তো (হাদীসে আছে) কেয়ামতের দিন একজন ঘোষণাকারী করবেন যে যার জন্য আমল করেছ, তার থেকে বিনিময় নেও। এ কথা একজন মুমিন বান্দা জানে ও মানে।

নেক কাজ করে আনন্দ লাগছে, তার ফায়দাও হয়ত দৃশ্যমান হচ্ছে তবু নিশ্চিত বলতে পারছি না আল্লাহ কবুল করেছেন কিনা। তাহলে যদি নেক কাজ করে অন্তরে বা প্রকাশ্যে অহমিকা প্রকাশ করা হয়, সেটা কিভাবে স্বস্তির কারণ হতে পারে? এমন একটা মন্দ “ভাব নিয়ে” কিভাবে ভালো কাজ কবুলের আশা করা যায়?!

Advertisement

সমাজে দেখা যায়, কেউ নিজের নেক কাজ বা অর্জন-উপার্জন দেখিয়ে অন্যকে বাহাদুরি প্রকাশ করে কিছু বলে ফেলে। হয়ত বলে, দেখ এসব আমি নিজ বুদ্ধি বা সম্পদ দিয়ে গড়েছি। কেউ হয়ত বলে, আমার যোগ্যতা বা ক্ষমতা বলে এসব আমি অর্জন করেছি। কেউ তো অহংকার করার সময় এতটা হিতাহিত জ্ঞান হারায় যে বলে বসে, দেখ! আমাকে আল্লাহ এসব দিয়েছে। অথচ সে আল্লাহর অনুগত বান্দা নয়। সে আল্লাহ পাকের অবাধ্যতা করে থাকে। তারপরও মনে করে যে তার এসব অবাধ্যতা কিছুই নয়—সেই আল্লাহর প্রিয় বান্দা!! এমনটা মানুষ কখন বলে, কেন বলে? যখন সে নিজ অন্যায়-অবিচারের কোনো ধার ধারে না। একদম বেপরোয়া জীবনযাপন করে। অহংকার তুঙ্গে উঠে! অথচ বাস্তবে আল্লাহ এমন ব্যক্তির জন্য রশি ঢিল দিয়ে থাকেন—আরও সুযোগ দিয়ে তাকে সীমালঙ্ঘনের কিনারায় নিয়ে ধ্বংস করে দেন! আল্লাহর পানাহ।

সবারই উচিত সূরা কাহাফের দুই বাগানওয়ালার ঘটনাটি স্মরণ করে সেটির ওপর চিন্তা-ফিকির করা! ঘটনাটি খুবই শিক্ষণীয়। স্বয়ং আল্লাহ পাক আমাদের শিক্ষা লাভের জন্য শুনিয়েছেন।

দুই বাগানওয়ালার ঘটনাটি মোটামুটি এমন: সন্তান ও সম্পদে এক ব্যক্তি অগ্রসর হয়ে তার চেয়ে তুলনামূলক কম সন্তান ও সম্পদের অধিকারী ব্যক্তিকে তুচ্ছ করে বসল। এক পর্যায়ে তো প্রথম ব্যক্তি নিজের সম্পদকে চিরস্থায়ী বলে ফেলল। তারপর এ কথাও বলল যে, যদি কোনো কারণে এসব শেষ হয়ে যায়, আল্লাহ তাকে আরও উত্তম সম্পদ দেবে। আরও ভয়াবহ হল, সে কেয়ামত ও হিসাব-নিকাশ অস্বীকার করল। দ্বিতীয় ব্যক্তি তাকে সতর্ক করল। কিন্তু সে মানল না। পরে যখন কোনো একদিন আযাবে গ্রেফতার হয়ে প্রথম ব্যক্তির সব সম্পদ নিঃশেষ হয়ে গেল তখন সে স্বীকার করল যে আল্লাহর প্রতি না-শোকর, নিজের ফখর-দম্ভ প্রকাশ করা আদৌ উচিত হয়নি। দেখুন সূরা কাহফ ১৮:৩২-৪৪

এ ঘটনায় এটিও স্পষ্ট: নিজের অর্জনকে ভালো মনে করার এক পর্যায়ে অন্যের সামান্য ভালো কিছু বা অর্জনকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার স্পর্ধাও হতভাগ্যদের নসীবে হয়ে যায় (আল্লাহর পানাহ)।

খুব স্মরণ রাখা উচিত: আমরা আল্লাহর রহমতেই নেক কাজ করে থাকি। আল্লাহর রহমতেই তাঁর নেয়ামত আমাদের হস্তগত হয়। তাঁর ইচ্ছাতেই সেগুলো ভোগ করতে পারি। তাই আল্লাহর দানের উপর ফখর বা গর্ব করার প্রশ্নই উঠে না! করতে হবে শোকর।

1

আমাদের সকল আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন!

By pressing the Subscribe button, you confirm that you have read and are agreeing to our Privacy Policy and Terms of Use
Add a comment Add a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 − 12 =

Previous Post

কুরআন ও মুমিন জীবন

Advertisement