Dark Mode Light Mode
আল্লাহ আল্লাহ বলা সাধারণ ব্যাপার নয়
পরিবারের একজন দায়িত্বশীল সদস্য কেন হওয়া উচিত

পরিবারের একজন দায়িত্বশীল সদস্য কেন হওয়া উচিত

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন (অর্থ): তোমাদের প্রত্যেকেই একজন দায়িত্বশীল অভিভাবক এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে। জনগণের দায়িত্বে নিয়োজিত শাসক একজন অভিভাবক এবং তিনি তাদের সম্পর্কে দায়িত্বশীল। পুরুষ তার পরিবারের অভিভাবক এবং সে তাদের সম্পর্কে দায়িত্বশীল। নারী তার স্বামীর ঘর ও সন্তানদের অভিভাবক এবং সে তাদের সম্পর্কে দায়িত্বশীল। দাস তার মনিবের সম্পদের অভিভাবক এবং সে সে সম্পর্কে দায়িত্বশীল। জেনে রাখ, তোমাদের প্রত্যেকেই একজন অভিভাবক এবং তোমাদের প্রত্যেককেই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে। বুখারী

পরিবারের একজন দায়িত্বশীল সদস্য হওয়া অন্যতম একটি ঈমানী দায়িত্ব। আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক মুমিনকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন সেটি তার পালন করা জরুরি।

আল্লাহ তাআলার কাছে প্রত্যেকের জবাবদিহিতা আছে। আমাকে আল্লাহ তাআলা যে অবস্থান দিয়েছেন, সে অবস্থানে থেকে আমি কী করেছি–এটির পরীক্ষা চলছে। ব্যক্তির পারিবারিক অবস্থান সবচেয়ে প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ পদ। কেউ যদি ভালো বোন বা ভাই না হতে পারে, ভালো স্ত্রী বা স্বামী না হতে পারে, ভালো মা বা বাবা না হতে পারে–তাহলে অন্যান্য অবস্থানে তাকে কিভাবে দায়িত্বশীল আশা করা যায়?! আর এখানে ভালো বলতে, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে ও তাঁর আদেশ ভালো হওয়া! কেবল রক্তের টানে নয়। রক্তের টানে মানুষ অন্যায় পক্ষও নেয়। সেটা কখনো ভালো নয়! তবে রক্তের সম্পর্ককে মূল্যায়ন করা, অটুট রাখা–এটি গুরুত্বপূর্ণ; একজন ঈমানদার তা ঈমানের খাতিরে বা আল্লাহর আদেশ হিসেবেই করে থাকে।

পারিবারিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি নির্ভর করে পরস্পরের হক আদায়ের ওপর। যত বেশি আমরা প্রত্যেকে নিজের দায়িত্ব পালন করব তত বেশি অন্যদের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক গড়ে উঠবে।

Advertisement

পার্থিব জীবনে পারিবারিক সুখ-শান্তির কোনো বিকল্প নেই। ব্যক্তির জন্য পারিবারিক বিষয়গুলির সমাধান পরম প্রশান্তির কারণ। পরিবারে অশান্তি মানে সমগ্র জীবনে অশান্তি!

পরিবারের হক আদায়ের জন্য আখেরাতে বিরাট পুরস্কার রয়েছে। এর বিপরীতে, পরিবারের উপর জুলুমকারীর জন্য আছে বড় ধরণের শাস্তি।

পরিবারের দায়িত্বশীল সদস্য হলেই সে ব্যক্তি সমাজে ও দেশের জন্য উপকারি ও নেক। আল্লাহর বান্দা হিসেবে ও নবীজী ﷺ-এর উম্মত হিসেবে নেক হওয়ায় জন্য পরিবারের নেক সদস্য হওয়া জরুরি।

যে ব্যক্তি স্বেচ্ছাচারী ও লাগামহীন জীবনযাপন করে, তার কারণে সর্বপ্রথম সে নিজে তারপরই তার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিবারের জন্য সে বোঝা, সমাজের জন্য সে বোঝা এমন ব্যক্তি সবার অপ্রিয় হওয়াই স্বাভাবিক যে কিনা অন্যকে কষ্ট দেওয়ার কাজে নিয়োজিত থাকে। মন মত চলার কারণেই একজন ব্যক্তির এই পদস্খলন ও অন্যদের কষ্ট!

আমাদের পরিবারের কর্তা বা নেতৃস্থানীয় সদস্যদের ভূমিকা তাই আরও বড়। তাদের মাধ্যমে অধীন্থগণের তরবিয়ত বা সংশোধন হয়ে থাকে। নিজেকে সংশোধন করার সাথে সাথে সবার সংশোধনের দায়িত্ব নিয়ে তাদের চলতে হবে। অতএব, তাদেরকে সবচেয়ে বেশি দায়িত্ববান হতে হবে।

আমাদের সকল আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন!

By pressing the Subscribe button, you confirm that you have read and are agreeing to our Privacy Policy and Terms of Use
Add a comment Add a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × 2 =

Previous Post

আল্লাহ আল্লাহ বলা সাধারণ ব্যাপার নয়

Advertisement