দুনিয়ার হায়াতে থাকতে আমরা হয়ত কম উপলব্ধি করতে পারছি নেক আমল কত দামি।
মুসলিম শরীফ-এর হাদীসের অর্থ: কেয়ামত ততদিন হবে না যতদিন (দুনিয়ায়) আল্লাহ আল্লাহ বলার মতন কেউ বাকি থাকবে।
কেউ (আন্তরিকভাবে) “আল্লাহ আল্লাহ” বলছে মানে হল, তার অন্তরে ঈমান বিদ্যমান। এমন ব্যক্তি আল্লাহকে স্মরণ করে, আল্লাহকে ডাকে, আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহকে ভালোবাসে, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে। সে জানে আমলের প্রতিদান আল্লাহ দেবেন। আল্লাহর আদেশেই সব হয়।
বান্দাকে রিযিক দেন আল্লাহ। বান্দাকে সুস্থ রাখেন আল্লাহ। বান্দা গুনাহ করে ফেললে যদি খাঁটি তওবা করে, আল্লাহ মাফ করে দেন। বান্দার সব প্রয়োজন পূরণ হয় আল্লাহর আদেশে। আল্লাহ পাকের ক্ষমতা অসীম।
এমন সত্তার নাম যতবারই নিই অন্তর পরিতৃপ্ত হবে না! ঈমানদার আজীবন, আমৃত্যু “আল্লাহ আল্লাহ” বলে মাওলাকে ডাকে। নিজের সব প্রয়োজনের কথা বলে। ক্ষমা চাইতে থাকে। এভাবে আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক মজবুত হতে থাকে। এটাই তো আল্লাহ আল্লাহ বলার সবচেয়ে বড় সার্থকতা!
মানুষের তো টাকা কম, সুখ কম, আরও কত সমস্যার অভিযোগ! এটাই দুনিয়ার অবস্থা। অবশ্য দুনিয়ার মোহ না থাকলে এসব কম—এটা কম চোখে পড়বে; কিন্তু চোখে বেশি পড়বে নেক আমল কম হয়ে যাচ্ছে।
আমাদের উচিত “আল্লাহ আল্লাহ” বলেন আর জপেন এমন বুদ্ধিমান ব্যক্তির সন্ধান করা; এমন ব্যক্তিদের সঙ্গ বেশি গ্রহণ করা। তাহলেই আমাদের যবান ও অন্তর আল্লাহ আল্লাহ বলায় অভ্যস্ত হবে ইনশাআল্লাহ!
তখন দুনিয়ার জিনিসে এত মন লাগবে না যত মন এখন লাগছে। দুনিয়ার জীবনে প্রশান্তি পাওয়ার এটাই মূল ও সহজ পথ।
দুনিয়ার হাহাকার দুনিয়াতে ব্যস্ত থাকলেই কমে না। অন্তত ঈমানদারের জন্য তো কখনেই না! আখেরাতের পুঁজি তৈরিতে ব্যস্ততা মুমিনকে এগিয়ে নেয়। আল্লাহ আল্লাহ করেই এগিয়ে যেতে হয়!
যেকোনো কাজ করব, সঙ্গে আল্লাহর স্মরণ থাকবে। কখনো মুখে, কখনো অন্তরে বা ধ্যানে– আল্লাহকে স্মরণ রাখা মানেই আল্লাহ আল্লাহ করা, আল্লাহ আল্লাহ জপা। তবে কিছু সময়ের জন্য হলেও সম্পূর্ণভাবে সবকিছু থেকে ফারেগ হয়ে মুখে আল্লাহ আল্লাহ জপতে হবে। মুখে এ যিকির যত করা হবে অন্তরে সেটি তত বেশি রেখাপাত করবে! সারা শরীরে, সারা জীবনের এটির প্রভাবে পড়বেই পড়বে।
দুনিয়ার প্রয়োজনীয় কাজ সবাই করে। দুনিয়ার খাটুনিতে লাভ আছে–এটা সবাই জানে। তাই এটা আলাদা স্মরণ করানো লাগে না! কিন্তু আল্লাহ আল্লাহ করে মৃত্যু পর্যন্ত যেতে হবে এটা স্মরণ করানোর লোক কমে গেছে। তাই প্রত্যেকে যেন নিজের চিন্তা করে আল্লাহ আল্লাহ করা শুরু করি; নিজের অধীনস্থদেরও বোঝাতে থাকি। কারণ আখেরাতের প্রস্তুতির জন্য এ জীবনই সুযোগ!
খাঁটি মুমিন সব কাজে, ধ্যানে-খেয়ালে আল্লাহকে স্মরণ রাখে। কারণ ঈমানের বরকতে তার চিন্তা হল, দুনিয়া আমল করার জায়গা। এখানের খাওয়া-পরা বিলাসের জন্য ভোগ করা যায় না! দ্রুত এ জায়গা ছেড়ে চলে যেতে হবে। বেশি বেশি আল্লাহ আল্লাহ করলেই আসল পুঁজি অর্জন সম্ভব—যেটা নিয়ে কবরে গেলেই আসল সুখ-শান্তি আর আনন্দ চিরকাল উপভোগ করা যাবে!
উল্লেখিত হাদীসের মর্ম অনুযায়ী তো কেবল আল্লাহ আল্লাহ বলা ব্যক্তি বাকি আছে আর এমন অবস্থায় কেয়ামত হবে—এটা হতেই পারে না!
কুরআন-হাদীসে যিকির-এর আলোচনার আলোকে আল্লাহ আল্লাহ বলার যদি ব্যাপক অর্থ গ্রহণ করা হয়, তাহলে তো কেবল মুখে আল্লাহ আল্লাহ যিকির করা নয় (যদিও মুখে যিকির অবশ্যই বিরাট কিছু!)—জীবনের প্রতিটি কাজে আল্লাহকে স্মরণ বোঝায়।
আর এদিকেই আমাদের মনোযোগী হওয়া উচিত। সারাজীবন আল্লাহর পথে চলার নামই সবসময় তাঁকে স্মরণ রাখা। আল্লাহর অনুগত হয়েই তাঁর আসল স্মরণ সম্ভব। আযানে আল্লাহু আকবার, নামাযে আল্লাহু আকবার, উঠতে-বসতে আল্লাহর নাম, হাদীসের দোআ পাঠ। সামাজিকতায়, আচার-ব্যবহারে, পরিবারের মাঝে ও বাইরে প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ অনুসরণ, লেনদেনে ও আখলাকেও তা-ই। সবসময়, সব জায়গায় আল্লাহকে ভয় করে চলা—হারাম থেকে বাঁচা, গুনাহ থেকে বাঁচা, কারুর ক্ষতি না করা, হিংসা না করা, গীবত না করা, গুনাহ হলেই তওবা করা—এসবই হল “আল্লাহ আল্লাহ” করা!
একজন মুসলমান যে কিনা মুখে আল্লাহ আল্লাহ করে, তার কাজে তো অবশ্যই সেই ছাপ থাকে—সে আল্লাহর একজন অনুগত বান্দা হয়ে বাঁচে আর মরে!
মুখে যে জপি আল্লাহ আল্লাহ
কাজেও আমি বান্দা তাঁর,
মনের ভিতর ভালোবাসা-ভয়
সর্বদা সেই এক সত্ত্বার!




