Dark Mode Light Mode

২২তম তারাবীহ: ২৫তম পারার মর্মার্থ

২৪ পারার শেষাংশে কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার ন্যায়ানুগ সিদ্ধান্তর কথা তুলে ধরা হয়েছে। ২৫ পারার শুরুতে বলা হচ্ছে, কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার আসল সময় কেবল আল্লাহ তাআলাই জানেন। মানুষ কেনা-বেঁচা ও নিজেদের প্রয়োজনে ব্যস্ত থাকবে। তখন আকস্মিক কেয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে। সেদিন আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের জিজ্ঞাসা করবেন, “আমার ঐ অংশিদারেরা কোথায়, দুনিয়াতে তোমরা যাদের উপাসনা করতে”? তারা অনুশোচনা ও আক্ষেপের সুরে বলবে, “আজ আমাদের মাঝে আপনার অংশিদারিত্বের দাবিদার কাউকে দেখছি না।” (৪৭)

সূরার শেষ ভাগে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, “অবশ্যই আমি তাদের জন্য আমার সে সমস্ত নিদর্শনাবলি ব্যক্ত করব, যা বিশ্ব জগতে এবং তাদের মাঝে সুপ্ত আছে। তখন তাদের নিকট সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে যে, এ কোরআনই চির সত্য।” আল্লাহ তাআলার এই ওয়াদা চির সত্য। বিগত চৌদ্দশত বছর ধরে সময়ের সাথে সাথে এই ওয়াদার বাস্তবতা প্রকাশিত হয়ে আসছে। বিশ্ব জগৎ এবং মানবজাতি সম্পর্কিত এমন বিস্ময়কর সব রহস্য উন্মোচিত হচ্ছে, যা প্রাচীন কালের মানব সমাজ কল্পনাও করতে পারেনি। বিশেষ করে বর্তমান যুগ হল আবিষ্কারের যুগ। প্রতিদিনই কিছু না কিছুর আবিষ্কার হচ্ছে। কেউ কি কল্পনা করেছিল যে, মানুষ চাঁদে পৌঁছবে, আর এখন তো প্রাচ্যের সাথে পাশ্চাত্যের যোগাযোগ হরহামেশাই হচ্ছে। শুধু মৌখিক যোগাযোগই নয়, বরং প্রত্যেকের বাস্তব অবস্থাও প্রতিমুহুর্তে দেখা যায়।

একটা সময় ছিল, যখন মানুষ সূর্যকে পৃথিবীর অন্যতম একটি বৃহদাংশ ভেবে এর সামনে মাথা নত করত, একে সিজদা করত। সে মানব জাতিই আজ আবিষ্কার করে ফেলেছে, সূর্য জগতের একটি ক্ষুদ্রাংশ মাত্র। সূর্য থেকেও বৃহৎ অনেক গ্রহ-নক্ষত্র এ জগতে আছে।

মানুষ আজ সমুদ্রের তলে গিয়ে জলজগতের শত রহস্য উন্মোচন করছে। মানব জাতির শারীরিক গঠন-প্রকৃতি নিয়েও বহু তথ্য-উপাত্ত আবিষ্কার করে ফেলেছে। উদ্ঘাটিত হয়েছে মনোবিজ্ঞানের মতো বিশাল এক জগৎ। এত কিছুর পরও কি কেউ দাবি করতে পারবে যে, সে জগতের সকল রহস্য উদ্ঘাটন করে ফেলেছে এবং বিজ্ঞানের চূড়ান্ত ও শেষ সীমায় সে উপনীত হয়ে গেছে। জ্ঞান বিজ্ঞানের এই উৎকর্ষের যুগকে সংগ দেয়ার যোগ্যতা কুরআন ভিন্ন অন্য কোন ধর্মীয় গ্রন্থের নেই। এটিই হল কুরআনের চিরন্তন মুজিযা হওয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ। এ কুরআন হযরত মূসা عَلَيْهِ ٱلسَّلَامُ এর লাঠি কিংবা হযরত সুলাইমান عَلَيْهِ ٱلسَّلَامُ এর বায়বীয় তক্তার মত সাময়িক বা বস্তুগত কোনো মুজেযা নয়। এ এক ইলমী ও জ্ঞানভিত্তিক মুজেযা; বিজ্ঞান যতই অগ্রসর হবে, কুরআনের সত্যতা এবং আল্লাহ তাআলার কুদরতের নিদর্শনাবলি ততই উন্মোচিত হতে থাকবে। সে দিন বেশি দূরে নয় যখন কুরআনের সামনে জ্ঞানী মাত্রই মাথা ঝুঁকিয়ে দিবে (ইনশাআল্লাহ)। তবে এর জন্য চাই সত্যোন্মুখ হৃদয় এবং সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত অন্তর।

পুরো পড়তে ক্লিক করুন: ২৫তম পারা

আমাদের সকল আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন!

By pressing the Subscribe button, you confirm that you have read and are agreeing to our Privacy Policy and Terms of Use
Add a comment Add a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

12 − 2 =

Previous Post

২১তম তারাবীহ: ২৪তম পারার মর্মার্থ

Next Post

২৩তম তারাবীহ: ২৬তম পারার মর্মার্থ