Dark Mode Light Mode

১৬তম তারাবীহ: ১৯তম পারার মর্মার্থ

সূরা ফুরকান
মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ৭৭, রুকু ৬
সূরাটির প্রথম ২ রুকু রয়েছে ১৮ নম্বর পারার শেষে। আলোচনার সুবিধার্তে সূরা ফুরকানের আলোচনা এ পারাতেই করা হল। সূরার শুরুতে কুরআন মাজীদের আলোচনা করা হয়েছে। কুরআনের ব্যাপারে মুশরিক জাতি নানা রকমের আপত্তিকর প্রশ্ন তুলত, এর আয়াতগুলোকে অসত্য মনে করত, কেউ কেউ কুরআনকে সুস্পষ্ট জাদু মনে করত।
সূরাটিতে কুরআনের আলোচনার পরে নবীজীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আলোচনা এসেছে। এক শ্রেণির লোক জেদের বশবর্তী হয়ে নবীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করত। তাদের ধারণা ছিল, কোনো মানুষের পক্ষে রাসূল বা নবী হওয়া সম্ভব নয়। নবী রাসূল তো হবেন ফিরিশতাদের কেউ। আর যদি মেনেও নেয়া হয়, মানুষ নবী বা রাসূল হতে পারে তাহলে তিনি তো হবেন পার্থিব বিচারে অবস্থাশালী এবং নেতৃস্থানীয়। কোনো অসহায় ইয়াতীম কখনো নবী হতে পারে না। আল্লাহ তাআলা তাদের অসাড় ধ্যান ধারণার মজবুত ও সুদৃঢ় জওয়াব দিয়েছেন।

*১৯ নম্বর পারার সূচনা হয়েছে মুশরিকদের ভিত্তিহীন ধারণা, আপত্তিকর প্রশ্ন এবং অনর্থক দাবী-দাওয়ার আলোচনা দিয়ে। যেমন তারা কখনো বলত, “আমাদের কাছে ফিরিশতা পাঠানো হয় না কেন কিংবা কেন আমরা স্বচক্ষে দেখতে পাই না আমাদের রবকে?
বলা হয়েছে, ফিরিশতাদেরকে তারা দেখতে পাবে তখন যখন ফিরিশতারা তাদের রুহ কবজ করতে আসবে। মুশরিকরা যেদিন ফিরিশতাদের দেখবে সেদিন তারা কোনো সুসংবাদ পাবে না। কারণ মুশরিকদের কোনো আমলের সাথে ঈমান ছিল না; আর ঈমান ছাড়া কোনো কাজই আল্লাহর কাছে কবুল হয় না। ঈমান না থাকার কারণে কেয়ামতের দিন মুশরিকদের কোনো আমলই কাজে আসবে না; বরং তাদের আমল ধুলার মত উড়ে যাবে।

*কেয়ামতের দিনটা হবে মুশরিকদের জন্য এক ভয়ানক দিন। তারা আফসোস করবে আর আঙুল কামড়ে বলবে, হায়, যদি নবীর পথে চলতাম। সেদিন নবী আল্লাহর কাছে শেকায়াত করে বলবেন, হে রব, আমার জাতি কুরআনকে বর্জন করেছিল। ইমাম ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন, কুরআনকে বর্জন করার অর্থ হল :
১. কুরআনের কথা না শুনা।
২. কুরআন অনুযায়ী আমল না করা।
৩. জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে কুরআনের ফায়ছালাকে না মানা।
৪. কুরআনের অর্থ নিয়ে চিন্তা ভাবনা না করা।
৫. রুহানী ব্যাধি নিরসনে কুরআনের চিকিৎসা গ্রহণ না করা ।

*মুশরিকরা এ প্রশ্নও তুলত, তাওরাত আর ইনজীল কিতাব এক দফায় পূর্ণ নাযিল হয়েছে। কুরআন কেন এরকম এক দফায় নাযিল হল না? সবার জানা কথা যে, কুরআন অল্প অল্প করে নাযিল হওয়ার পিছনে কিছু কারণ ও হিকমত ছিল।
১. সহজে হিফয করা।
২. অর্থ বোঝা।
৩. আহকামকে আমলী যিন্দেগীতে আনা ইত্যাদি।

পুরো পড়তে ক্লিক করুন: ১৯তম পারা

আমাদের সকল আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন!

By pressing the Subscribe button, you confirm that you have read and are agreeing to our Privacy Policy and Terms of Use
View Comments (2) View Comments (2)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous Post

১৫তম তারাবীহ: ১৮তম পারার মর্মার্থ

Next Post

দোআ: আল্লাহ তাআলার অশেষ নেয়ামত