সূরা মূমিনূন
মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ১১৮, রুকু ৬
সূরাটিতে দ্বীনের মূলনীতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। সূরাটির প্রথম ৯ আয়াতে মুমিনদের এমন ৭টি গুণের কথা বলা হয়েছে যা অর্জনের মাধ্যমে জান্নাতুল ফেরদাউসের অধিকারী হতে পারেঃ
১. রিয়া কপটতা মুক্ত খাঁটি ঈমান।
২. নামাযের মধ্যে খুশু তথা আল্লার সামনে ভয় ও বিনয়ের সাথে দাঁড়ানো।
৩. “লাগউ” থেকে মুক্ত থাকবে, অনর্থক যে কোনো কথা ও কাজকে ‘লাগউ’ বলে।
৪. সঠিক পন্থায় যাকাত আদায় করা, যাতে করে আল্লাহর হকের সাথে সাথে বান্দার হকের প্রতিও লক্ষ্য রাখা যায়।
৫. মুমিন নিজেকে ব্যাভিচার ও অশ্লীল কাজ থেকে মুক্ত রাখে।
৬. মুমিন আমানত রক্ষা করে এবং প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করে।
৭. মুমিন নামাযের পাবন্দী করে এবং নামাযের সময়ের প্রতি যত্নবান থাকে, নামাযের আদব ও রুকনসমূহের প্রতিও লক্ষ্য রাখে সে।
*মুমিনদের গুণাবলী বর্ণনার পর, মানুষের জীবনে এবং মানব শিশু জন্মের বিভিন্ন পর্যায়ে যে সকল ঈমানী দলীল রয়েছে তা বর্ণনা করা হয়েছে। কুরআন মাতৃগর্ভে মানুষের অস্তিত্বের বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে যখন এই বর্ণনা দিয়েছে তখন আরব-অনারবের কোনো বিজ্ঞানীর এ সম্পর্কে কথা বলার সাহস ছিলনা। বর্তমানের আধুনিক বিজ্ঞান ও মেডিকেল সাইন্স মানুষ সৃষ্টির এই পর্যায়গুলোকে স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে।
*মানুষের সৃষ্টি ও অস্তিত্বের মাঝে বিদ্যমান ঈমানী দলীল বর্ণনার পর রব্বে কারীমের অস্তিত্বের ব্যাপারে তিন ধরনের সৃষ্টিগত প্রমাণ বর্ণনা করা হয়েছে।
১. সাত আসমান এবং এর মাঝে যে সকল বিস্ময়কর মাখলুক রয়েছে এদের সৃষ্টি।
২. বৃষ্টি বর্ষণ এবং এর ফলে বিভিন্ন ফসল ও ফলের উৎপাদন।
৩. চতুস্পদ প্রাণী ও এদের মাঝে দুধ, গোশত, পশম, বহনক্ষমতা, ধৈর্যশীলতা প্রভৃতি উপকারিতার সৃষ্টি।
*আল্লাহর ক্ষমতা ও একত্ববাদের বর্ণনার পর এই সূরার আলোচনা চলে যায় কতিপয় আম্বিয়া (আ.) এর ঘটনার দিকে। এ প্রসঙ্গে নূহ (আ.), হুদ (আ.), সালেহ্ (আ.), মূসা (আ.), হারুন (আ.) এবং ঈ‘সা (আ.) এর ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। এদের সকলের একই দা‘ওয়াত, একই কার্যক্রম এবং একই উদ্দেশ্য ছিল। তাদের ঘটনা পড়লে মনে হয় যেন সকলে একই সময়ে একই স্থানে প্রেরিত হয়েছিলেন। কিন্তু এদের মাঝে ছিল সময়ের দীর্ঘ ব্যবধান। এসকল আম্বিয়া (আ.) এর ইন্তিকালের পর তাঁদের উম্মতরা বিভিন্ন দল ও উপদলে ভাগ হয়ে যায়। বর্তমানে মুসলমানরাও এই অবস্থার শিকার। এই মতভেদের একটাই সমাধান, দল-মত নির্বিশেষে সকলে কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা।






