সূরা যুমারের যে অংশটুকু ২৪তম পারায় রয়েছে তার কিছু চুম্বকাংশ পাঠকের খেদমতে পেশ করা হল :
১। কুরআন বলে, সমগ্র মানব সমাজ দু’ভাগে বিভক্ত। একটি দল কাফিরদের যারা আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করে এবং কুরআন ও রাসূলকে অস্বীকার করে। এদের ঠিকানা জাহান্নাম। দ্বিতীয় দলটি হল নবী-রাসূল এবং তাদের অনুসারীদের। তাদের পুরস্কার জান্নাত।
২। মানুষের উপর রব্বে কারীমের এটিও একটি বিশেষ মেহেরবানী ও ইহসান যে তিনি অপরাধী এবং কাফিরদের জন্য রহমত ও তাওবার দরজা খোলা রেখেছেন। স্বয়ং তিনি-ই মানুষকে তাওবার এবং তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তনের দাওয়াত দেন। তিনি গুনাহগারকে নিরাশ করেন না; বরং তাদের হৃদয়ে আশার প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করেন। আল্লাহ তাঁর নবীকে হুকুম করছেন, “বলে দিন, ও আমার বান্দারা! যারা নিজেদের উপর অন্যায়-অবিচার করে ফেলেছো। তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হইয়ো না, অবশ্যই আল্লাহ সব গুনাহ মাফ করে দিবেন। নিশ্চয়ই তিনি অসীম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”
আরো ইরশাদ হচ্ছে, “আর তোমরা আপন রবের দিকে প্রত্যাবর্তন করো এবং তাঁর সামনে ঝুঁকে যাও তোমাদের উপর আযাব এসে পড়ার আগে আগেই, তখন কিন্তু তোমাদেরকে আর সাহায্য করা হবে না।” (৫৩-৫৫)
৩। বান্দাকে তাওবা এবং আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনের দাওয়াত দেয়ার পর এই সূরা আমাদের সামনে কেয়ামতের বিভিন্ন দৃশ্য তুলে ধরছে। সে দিন আল্লাহকে অস্বীকারকারীদের চেহারা কালো হয়ে যাবে, শিংগায় ফুঁ দেয়া হবে, সকলে আল্লাহর সামনে দণ্ডায়মান হবে, যিন্দেগীর হিসাব নেয়া হবে। এরপর কাফেরদেরকে টেনে হিঁচড়ে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে আর মুত্তাকীদেরকে জান্নাতে প্রবেশের জন্য আহ্বান করা হবে। ফেরেশতারা তাদেরকে অভ্যর্থনা জানাবেন, তাদের খেদমতে সালাম পেশ করবেন আর তারা আল্লাহর প্রশংসা করতে করতে আপন নিবাস জান্নাতে তাশরীফ গ্রহণ করবেন। (৬০-৭৩)






