রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের পবিত্র রমযান মাসে অপ্রয়োজনীয় ও গুনাহের কাজ তো ছাড়তেই হবে। পার্থিব প্রয়োজনীয় কাজগুলিতেও কম সময় দিয়ে ইবাদতে অধিক মনোযোগী হব ইনশাআল্লাহ। তবে যার যে দায়িত্ব রয়েছে তা অবহেলা করে নফল ইবাদত করা যাবে না।
সাধারণত, যে কাজগুলি আমাদের প্রচুর সময় নষ্ট করে, বছরের বাকি এগারো মাসও আমরা যেই কাজগুলি করে নিজেদের সমূহ ক্ষতি করে থাকি, তা বর্জন করা জরুরি। এ জাতীয় কাজের মধ্যে কয়েকটি: পত্র-পত্রিকা পড়া, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যত্রতত্র ব্যবহার, মোবাইল ফোনে আলাপচারিতা, আড্ডা ও গল্প-গুজবে কালক্ষেপণ, বাজার সদাই-এ অতিরিক্ত ব্যস্ত হওয়া।
শয়তান অতি চালাক ও ধোঁকাবাজ। সে সারা বছর এমনভাবে আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করে যেন রমযান মাসে সে শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আমরা তার সবক ভুলে না যাই। এই একটি মাস যদি নিজেকে তার ধোঁকাবাজির সবক থেকে বিরত রাখতে না পারি, তাহলে আমরা কেমন মুসলমান হলাম?!
যে মাসে ইফতারির সময় অসংখ্য জাহান্নামীকে আল্লাহ তাআলা মুক্তি দেন এবং আল্লাহ তাআলার বিশেষ রহমত অবিরাম নাযিল হতে থাকে, জান্নাতের আটটি দরজা উন্মুক্ত থাকে, দোযখের সাতটি দরজা থাকে বন্ধ, সে মাসটিকে কি আমাদের অবহেলা করা উচিত? কমপক্ষে রোযা রাখি, তারাবীহ পড়ি ও গুনাহ থেকে বাঁচি। এটিই আমার জীবনের শেষ রমযান হতে পারে, সামনের বছর আমি আর এ পৃথিবীতে নাও থাকতে পারি – এ চিন্তাটুকু করে হলেও পবিত্র রমযানকে রহমতের পরিবর্তে নিজের আযাবের কারণ না বানাই। আল্লাহ তাআলা বলেন:
يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ فَلا تَغُرَّنَّكُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا وَلا يَغُرَّنَّكُمْ بِاللَّهِ الْغَرُورُ
অর্থ: হে মানুষ! নিশ্চই আল্লাহ তাআলার ওয়াদা সত্য। কোনোভাবেই যেন পার্থিব জীবন তোমাদেরকে ধোঁকায় ফেলতে না পারে, আর আল্লাহ তাআলা সম্পর্কেও যেন সেই ধোঁকাবাজ (শয়তান) তোমাদেরকে ধোঁকায় ফেলতে না পারে, সে অতি বড় ধোঁকাবাজ। সূরা ফাতির – ৩৫:৫






