রমযান মাসটির গুরুত্ব বলে শেষ করা সম্ভব নয়। আলহামদুলিল্লাহ প্রতিটি মুমিনের অন্তরে রমযানের গুরুত্ব ও আযমত (সম্মান) রয়েছেই! প্রয়োজন সেটিকে আরও বেশি জাগিয়ে তোলা — সময়গুলো কোনোভাবে নষ্ট না করে কাজে লাগানো উচিত। আল্লাহ পাকের কাছে সবসময়ই নেক কাজের তাওফীক চাওয়া জরুরি — শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তা চাওয়া, শোকর ও ইস্তেগফার করে তাঁর দরবারে কবুলিয়াত চাওয়া!
রমযানের চাঁদ দেখে পড়ুন:
اللَّهُمَّ أَهْلِلْهُ عَلَيْنَا بِاليُمْنِ وَالإِيمَانِ وَالسَّلَامَةِ وَالإِسْلَامِ، رَبِّي وَرَبُّكَ اللَّهُ
আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল ইউম্-নি ওয়াল ঈমানি ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলামি, রাব্বী ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।
অর্থ: হে আল্লাহ, এই (নতুন চাঁদ/মাস) আমাদের জন্য বরকত, ঈমান, নিরাপত্তা ও ইসলামের সঙ্গে উদিত করুন। আমার প্রতিপালক এবং তোমার (হে চাঁদ!) প্রতিপালক আল্লাহ।
আলহামদুলিল্লাহ, বিভিন্ন সময়ে বিস্তারিত কিছু বলার তাওফীক হয়েছে। এবার তাই সংক্ষিপ্ত একটি লিস্টের মতন দেওয়া হল:
- বিশেষভাবে গুনাহ থেকে বাঁচার এহতেমাম
- আযানের জবাব
- পুরুষগণ জামআতে নামায
- আওয়াবিন
- সন্ধ্যার দোআসমূহ পাঠ
- তারাবীহ
- তেলাওয়াত (অধিক!)
- তাহাজ্জুদ+দোআ (সব দোআর পাশাপাশি বিশেষভাবে আমরা মজলুম মুসলমানদের জন্য দোআ করব)+সাহরি
- রোযা পালন
- এশরাক, চাশত-এর নামায
- তিন তাসবীহ
- মুনাজাতে মাকবূল পাঠ
- রমযান সংক্রান্ত আয়াতে কুরআন ও হাদিসগুলো পাঠ (ফাযায়েলে রমযান পাঠের মাধ্যমে সহজ)
- সুন্নত অনুসরণের বরকতপূর্ণ অভ্যাস গড়ে তোলা
- আল্লাহওয়ালাগণের নসিহত/রমযানের নির্দেশনা পাঠ
- দোআ+ইফতার
- মুরাকাবা+মুহাসাবা
শেষ দশককে বিশেষভাবে মূল্যায়ন
রমযানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর সন্ধানের লক্ষ্যে, সাধ্য অনুযায়ী ইবাদত অনেক বৃদ্ধি করব ইনশাআল্লাহ! শেষ দশকে রাত জেগে ইবাদত করব, পরিবারের সদস্যদেরকে আগে থেকে লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব বলব। রাতগুলোতে আগে-ভাগে সবাইকে জাগিয়ে দিব ইনশাআল্লাহ। আর শেষ দশকের রাতগুলোতে বেশি বেশি এ দোআটি পড়ব:
اللَّهمَّ إنَّك عفُوٌّ تُحِبُّ العفْوَ فاعْفُ عنِّي
আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি
অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন
এছাড়া বেশি বেশি
- ইস্তেগফার
- দরূদ শরীফ
- মাসনূন দোআগুলো পাঠ
- সবর (খুব খেয়াল করা! সব কাজে জরুরি)
- শোকর (খুব খেয়াল করা! সব কাজে জরুরি)
সাধ্য অনুযায়ী ও বেশি
- দান-সাদকা
- ইফতার করানো
- অন্যদের সাহায্য করা (এটির হাজারও উপায়- পথ!)
- শুধু বাইরের নয়, বাসার মানুষদের কোনো কষ্টে না ফেলা!
কথা কম, গুনাহ বিশেষ করে গীবত থেকে পূর্ণ তওবা, সোশাল মিডিয়ার ব্যবহার বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া একদম বন্ধ। তেলাওয়াতের গ্যাপগুলোতে সাধ্য অনুযায়ী তওবা, দোআ, ইস্তেগফারে মগ্নতা। এক কথায়, অপ্রয়োজনীয় বা অহেতুক সব কাজ থেকে দূরে থাকা উচিত!
এছাড়া
- জুমআ বারের আমল (সূরা কাহাফ, অধিক দরূদ পাঠ, দোআ)
বিশেষ দ্রষ্টব্য: ফরয, ওয়াজিব আমলগুলোর পর কুরআন তেলাওয়াত রমযানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল। শেষ দশকে তো ইতেকাফ, রাত জেগে ইবাদত খুবই গুরুত্বপূর্ণ! এক কথায়, রমযানকে রহমত বানানোর জন্য যা যা করা যায় — করি ইনশাআল্লাহ।




