Dark Mode Light Mode

আল্লাহ তাআলার ‘ফযল’ পেয়ে আমরা কী করছি

শেষ দশক অতি নিকটে..

আহা আল্লাহ তাআলার অবারিত রহমতের বিশেষ সময়টি উপস্থিত প্রায়! আল্লাহ তাআলা অশেষ দয়াময়। বান্দাকে সুযোগ দিতে থাকেন। এমন কিছু সুযোগও দেন — যদি বান্দা ঐ সময়ে সেই সুমহান দরবারে সামান্যতম ঝুঁকে তাহলে সারাজীবনের সফলতা ক্ষণিকে অর্জন সম্ভব হয়ে ওঠে!

ذَٰلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَاءُ ۚ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ

এটি আল্লাহ তাআলার কৃপা, যাকে ইচ্ছা তিনি তা দান করেন। আল্লাহ তাআলা মহাকৃপাশীল! সূরা জুমুআ – ৬২:৪

ইবনে উমর رضي الله عنه থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন (অর্থ): তোমাদের ও দুই আহলে কিতাব (ইহুদী ও খ্রিস্টানদের) উদাহরণ হল এমন যে এক ব্যক্তি কিছু শ্রমিককে নিয়োগ দিয়ে বলল: কারা সকাল থেকে মধ্যহ্ন পর্যন্ত এক কিরাতের বিনিময়ে কাজ করবে? ইহুদীরা তা গ্রহণ করল ও কাজ করল। তারপরও ঐ ব্যক্তি বলল: কারা মধ্যহ্ন থেকে আসরের সময় পর্যন্ত এক কিরাতের বিনিময়ে কাজ করবে?  খ্রিস্টানরা তা গ্রহণ করল ও কাজ করল। ঐ ব্যক্তি তারপর বলল: কারা আসর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত দুই কিরাতের বিনিময়ে কাজ করবে? তোমরা মুসলিমরা এই প্রস্তাব গ্রহণ করলে। ইহুদী ও খ্রিস্টানরা এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গেল। তারা জিজ্ঞেস করল, আমরা কেন বেশি কাজ করে অল্প পরিশ্রমিক পাব?! (আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে) বলা হল, তোমাদের কোনো অধিকার কি আমি নষ্ট করেছি? তারা স্বীকার করল — না তা নষ্ট করা হয়নি। তখন জবাব এল: ذَلِكَ فَضْلِي أُوتِيهِ مَنْ أَشَاءُ এটি আমার ফযল, আমি যাকে ইচ্ছা দিই। বুখারী

মালিক যাকে যতটুকু দেন, যা দেন, সেই বন্টনে তো খুশি থাকতেই হবে। আল্লাহ তাআলার মতন মালিক কেউ নয়। তাঁর সিদ্ধান্ত ও বন্টন সর্বশ্রেষ্ঠ! উম্মতে মুহাম্মাদী তথা মুহাম্মাদ ﷺ-এর উম্মতকে  তিনি যে সুমহান নেয়ামত দিয়েছেন তা কতই না উত্তম! আজ আমরা শ্রেষ্ঠ নবীর উম্মত হতে পেরেছি, কিন্তু নিজের মূল্য বুঝিনি। আল্লাহ তাআলার এত বড় দান-অবদানকে লক্ষ করে সামান্য গভীর চিন্তা-ফিকির করিনি, যথাযথ শোকর আদায়ে যন্তবান হইনি। বরং অবহেলায় এমন দামি সম্পদকে হেলায় নষ্ট করছি যার জন্য তেমান কোনো ভ্রুক্ষেপ-আক্ষেপ পর্যন্ত নেই! আহা এভাবে কি এত সুন্দর জীবন নিভে যেতে পারে?!

তবে ইল্লা মাশাআল্লাহ..আল্লাহ তাআলার এমন নেক বান্দাগণও আছেন। তারা কুরআনুল কারীমের ঐ আয়াতটি মনে করিয়ে দেয়:

ذَلِكَ فَلْيَتَنَافَسِ الْمُتَنَافِسُونَ

এ বিষয়ে প্রতিযোগীদের প্রতিযোগিতা করা উচিত। সূরা মুতাফফিফীন – ৮৩:২৬

এমন মানুষদের সাধনা দেখলে জান্নাতিদের কথা মনে পরে যায়! তাদের জীবনধারা দেখলে ঈর্ষা হয়। তারা এই পৃথিবীর বুকে অতি নির্মল অন্তরের মানুষ! অথচ তারা নিরহঙ্কারী। আমাদেরও উচিত তাদের অনুসরণ করার চেষ্টা করা। পার্থিব জীবনে আল্লাহ তাআলার পথে কষ্ট-ক্লেশ করেই মানুষ চির সফল হয়!

আল্লাহ তাআলা ঘোষিত বিশেষ সময়গুলো বিশেষভাবেই মূল্যায়ন করা উচিত। ইনশাআল্লাহ, আন্তরিক সাধনার ফলে আমাদেরকেও ‘বিশেষ কিছু’ দান করা হবে! আমরা যদি কেবল আল্লাহ পাকের ক্ষমাই পেয়ে যাই তাহলেই তো কত বড় পাওয়া সেটি!

رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ

হে আমার পালনকর্তা, তুমি আমার প্রতি যে অনুগ্রহই নাযিল করবে, আমি তার মুখাপেক্ষী। সূরা কাসাস – ২৮:২৪

এ শেষ দশকে কত সতর্ক হওয়া উচিত..(!)

আনাস রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, রমযানের আগমনে নবীজী ﷺ বলতেন,এই মহিমান্বিত মাস উপস্থিত। তাতে একটি রজনী রয়েছে, যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। যে ব্যক্তি এর কল্যাণ ও বরকত থেকে বঞ্চিত হল সে যেন সব কল্যাণ থেকেই বঞ্চিত হল। আর কেবল অভাগাই এর কল্যাণথেকে বঞ্চিত থাকে। নাসাঈ, ইবনে মাজাহ

আমাদের সকল আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন!

By pressing the Subscribe button, you confirm that you have read and are agreeing to our Privacy Policy and Terms of Use
Add a comment Add a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous Post

মহিলাদের ইতিকাফ: মৌলিক নিয়ম, নির্দেশনা ও মাসায়েল (ই-বুক)

Next Post

যে 'বন্ধুটি' আসে বছরে একটি বার: ২