সেই পুরনো কথা নতুন করে বলছি। কারণ বলতেই হয়। সত্যকে স্মরণ করানোর মাঝে কল্যাণ নিহিত আছে।
নেয়ামতের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। তার কদর করা হচ্ছে কতটুকু?
যে ব্যক্তি আজ ইসলামের মধ্যে প্রবেশ করল তার অবস্থাটি দেখুন। তার অবস্থার সঙ্গে আমাদের (যারা জন্ম থেকেই ইসলাম পেয়েছি) অবস্থার সবকিছু মিলিয়ে দেখা যুক্তিসঙ্গত না হলেও, কিছু বিষয় তো অবশ্যই তুলনা করা যায়। আর তাতে ফায়দাও অনেক।
মানুষের বড় নেয়ামতসমূহের অন্যতম হল তার স্রষ্টাকে চেনা। তার জীবনের লক্ষ্যকে বোঝা। আমাদের ওপর আল্লাহ তাআলার অপরিসীম নেয়ামত হল দ্বীন ইসলাম। যে দ্বীন আমরা পেয়েছি অতি সহজে, বিনা মেহনত ও পরিশ্রমে। অথচ আজ কোনো নও-মুসলিমকে জিজ্ঞাসা করুন, সে কিভাবে ঈমান-ইসলাম পেয়েছে? কত প্রশ্ন, কত চিন্তা, কত সফর, কত ত্যাগ-তিতিক্ষা-কুরবানী। কত পরিশ্রমের পর সে ঈমান-ইসলাম পেয়েছে। তারপরও তার মুখে নির্মল হাসি। সে বড় কৃতজ্ঞ। তার নামায, তার ধ্যান, খেয়াল, চিন্তা-ফিকির, চেতনার মধ্যে যেমন আছে একাগ্রতা তেমন খুলুসিয়াত (আন্তরিকতা)। তার জ্ঞান আহরণের আগ্রহ, তার দ্বীন মানার জযবা ও প্রচেষ্টা সবই কত প্রাণবন্ত।
হ্যাঁ, আমরা হয়ত এভাবে কালেমা পড়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে মুসলমান হইনি। আমরা ইসলামে প্রবেশের সময় হয়ত সেই পরিবেশ-পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যেমনটি সেই নও-মুসলিমের হয়েছে। কিন্তু তারপরও আমাদের দেখা উচিত, আমাদের জীবনের কোনো একটি সময়ে, কোনো ঘটনায়, কোনো মুহূর্তে এতটুকু অনুভূতি কি একটুও এসেছিল, যেমন আনন্দ-প্রশান্তি ও হৃদয়-স্পন্দন, আত্মিক উৎকর্ষ অনুভব করছে কোনো নও মুসলিম? আরও আশ্চর্য হল, জীবনের অনেক কিছু হারিয়ে ইসলাম পেয়ে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ কে পেয়ে যে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা একজন নও মুসলিম প্রকাশ করে, তাতে বোঝা যায় যে, ঈমানের নূর তার অন্তরকে কতটা প্রভাবিত করেছে। সেই নূর তার অন্তরের অন্তঃস্থলে পৌঁছেছে, মাশাআল্লাহ। না হলে হাতে কিছু নেই, বাহ্যিক-ভাবে কিছুই অর্জিত হয়নি। কিন্তু সীমাহীন এক আনন্দে সে উদ্বেলিত। এটি তো কিছু একটা পাওয়ার আনন্দ। কী পেয়েছে, তা না সে নিজে দেখতে পাচ্ছে। আর না সে কাউকে সেটি দেখাতে পারছে। তাই কবি বলেছেন:
অন্তরে যার ভালোবাসা তাঁর
সেই তো আসল ধনী
তার সম্পদ সীমাহীন
তোমরা দেখ না,
সেই ঐসবই ভোগ করে
তোমরা বোঝো না।
একদিন সবই দেখে
আফসোস করবেই,
লাভ হবে না
আফসোসই হবে কেবলই।
কেন সে পাওয়া
তোমারও কেন হল না
কেন সে জীবন তুমি
কেন বানালে না!?
আমাদের (যার জন্মসূত্রে মুসলমান) কাছে ঈমান-ইসলাম কি পুরনো হয়ে গেছে?! আমরা কি তার স্বাদ লাভে ধন্য হতে পারছি না?! না না, আসলে ঈমান-ইসলাম কি পুরনো হয়?! এ সম্পদ যদি পুরনো হয় তা জীবনকে আরও দামি করে ছাড়ে..
বরং, আমাদের অন্তর ঈমান-ইসলাম থেকে শূন্য হতে চলেছে।
হায় আফসোস! যে জিনিসের সন্ধানে শত-কোটি মানুষ জীবন বিসর্জন দিতে তৈরি হয়েছে, আজও হচ্ছে – আমরা সেই জিনিসই সঙ্গে নিয়ে বসে আছি। তার মূল্য তো বুঝিই না, উল্টা হয় তা সস্তায় বিক্রি করতে প্রস্তুত হয়ে যাই কিংবা নষ্ট হলে হোক — কোনো পরোওয়া নেই! আল্লাহর পানাহ। ঈমানের নূর আমার অন্তর থেকে বের হয়ে গেলে ঈমান-ইসলামের কিছু যায় আসে না। ক্ষতি শতভাগ আমারই। আমি তা হারিয়ে নিজেই বরবাদ আর ধ্বংস হয়ে যাব। আর অন্য কোনো অন্তর ঠিকই তা কবুল করে ধন্য হয়ে যাবে। তাই আমার কাছে এই অমূল্য জিনিস থাকতে তার কদর করি ইনশাআল্লাহ।
দেখুন আপনার কী আছে আর কী নাই? আপনার কাছে ঈমানের মত সম্পদ থাকতে আপনি কেন মনে করছেন আপনি দুখী, গরীব, বঞ্চিত ও হতভাগ্য? কোনো মুসলমান যখন দুনিয়ার কোনোকিছু হারিয়ে অতিরিক্ত আফসোস ও আস্ফালন করবে তাকেও এ কথা স্মরণ করিয়ে দিন।
অত্যন্ত দামি নেয়ামত নিয়ে বসে আছি আমরা। অথচ তেমন কোনো অনুভূতি আমাদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। শুকরিয়ার তো খুব বেশি অভাব। দুনিয়ার থেকে চলে যাওয়ার সময়টিতে বুঝে আসবে যে কী জীবন বানানোর ছিল – হায়! কী জীবন বানিয়েছি। হে আল্লাহ! এমন আফসোস যেন করতে না হয়। আমীন।






