হজ্ব মহান ও অতুলনীয় এক ফরয ইবাদত। শয়তানও তার সাধ্যমত আমাদের বিভিন্ন প্ররোচণা দিতে প্রস্তুত। এ থেকে আমরা অত্যন্ত সতর্ক থাকব। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি জরুরি ও উপকারী হল শয়তান থেকে আল্লাহ তাআলার আশ্রয় চাওয়া।
হজ্বের সফরে যে কষ্ট হবে, প্রতিকূলতা আসবে তা হাসিমুখে বরণ করাই একজন ঈমানদারের সুন্দরতম ঈমানের পরিচয়। শয়তান আমাদের জবানকে খারাপ করতে চাবে। সে চাবে কারো সাথে ঝগড়া-বিবাদ ঘটাতে।
মনে গেঁথে ফেলতে হবে যে, শয়তান আমার চিরশত্রু। তাকে পাথর মেরে (আল্লাহর প্রতি) নিজ দাসত্ব প্রকাশেই তো হজ্বে যাচ্ছি। সুতরাং ঐ কাজ কেন করব যাতে আল্লাহ নারাজ? আমরা আল্লাহ তাআলাকে সন্তুষ্ট করার জন্য খারাপ কথা, চিন্তা, নালিশ করা, ঝগড়া-ঝাটি — সবরকম মন্দ বিষয় ত্যাগ করতে দৃঢ় ভাবে তৈরি থাকব ইনশাআল্লাহ। এগুলো হজ্বের রূহানী প্রস্তুতি। সবচেয়ে জরুরি প্রস্তুতি।
আসলে চিন্তাধারা, ফিকির, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সঠিক হলে কোনো কষ্ট-ক্লেশ, পরিশ্রম বাঁধা হয় না। আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও ভালোবাসা যার চাওয়া-পাওয়ার কেন্দ্রবিন্দু হয়, তার জন্য তো জীবন বিসর্জনই সহজ হয়ে যায়। এতটুকু কষ্ট-ক্লেশ তো কিছুই নয়।
আমরা চিন্তা করব যে, এটি আল্লাহ তাআলার ঘরে হতে পারে আমার জীবনের শেষ যাওয়া। আমি এক গুনাহগার, খতাকার, সিয়াকার। আমার তো ক্ষমা দরকার। ক্ষমা ছাড়া তো আমার কোনো উপায়ই নেই। ক্ষমা পাবার মোক্ষম এ সুযোগে অন্য কী চিন্তার অবকাশ থাকতে পারে?
আল্লাহ তাআলার মেহমান হওয়া চারটি খানি কথা নয়। আল্লাহ তাআলার মত মেজবান পাওয়া কোনো সাধারণ বিষয় নয়। আল্লাহ তাআলার উপর ভরসা করে তাঁর বারগাহে উপস্থিত হব। তাঁর কাছে দুই জাহানের শান্তি ও নিরাপত্তা চাব। মাগফিরাত চাব। তাঁর দীদার চাব। তাঁর প্রিয় রাসূল ﷺ -এর ভালোবাসা ও শাফাআত চাব। চির শান্তির আবাস জান্নাত চাব। আমার সব মনোযোগ তো থাকবে এ দিকে। আর বাস্তবিকই, যাকে আল্লাহ তাআলা তাঁর ঘরে ডেকে নিয়েছেন তাকে আল্লাহ তাআলা খালি হাতে ফিরিয়ে দেবেন? তাকে আল্লাহ তাআলা বঞ্চিত করবেন? কখনো এমনটা হবে না ইনশাআল্লাহ।
এই আশা বুকে বেঁধে, বড় ‘আজীযি’ অর্থাৎ, অত্যন্ত বিনয়ের সাথে, অনেক দুআর সাথে, সম্পূর্ণ ভালো ধারণা নিয়ে, কষ্ট ও ক্লেশ কে হাসিমুখে গ্রহণ করতে করতে, ইস্তেগফার ও তওবার সাথে আমরা “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক….” (আমি হাজির… হে আল্লাহ…আমি হাজির।) বলতে বলতে অগ্রসর হব ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তাআলাই কবুল ও সহজ করার একমাত্র মালিক।
ইনশাআল্লাহ চলবে…..






