রমযান মাস হল বিশেষ ভাবে ইবাদতে মনোযোগী হওয়ার মৌসুম। এই মাসটি অবহেলা করা বড়ই দুর্ভাগ্যজনক। যে কাজগুলি নিতান্তই প্রয়োজন, শরীয়তের উদ্দেশ্য – সেগুলিতো মানবীয় চাহিদা হিসেবে করব; কিন্তু অপ্রয়োজনীয় কাজ আর গুনাহ-এর বিষয়ে আমরা পূর্ণ সতর্ক থাকব ইনশাআল্লাহ।
এখন তো এত বেশি ব্যস্ততা যে, কোনো কাজ করার সময় নেই। এখনতো অবস্থা এমন, সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় কাজটি রুটিনে একদম “তলায়”। অহেতুক, অপ্রয়োজনীয়, একদম বেহুদা আর গুনাহের কাজ পর্যন্ত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ (আল্লাহ তাআলা এগুলো পরিত্যাগের তৌফিক দান করেন!)।
একটু যত্ন সহকারে রমযানে গুনাহ ছেড়ে দিই। একটু হিম্মতের সাথে, আল্লাহ তাআলার কাছে দোআর মাধ্যমে এখন থেকেই প্রস্তুত হয়ে যাই বেশি ইবাদত বন্দেগীর জন্য। ইনশাআল্লাহ পুরো রমযান মাসটা রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের কারণ হয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলার ক্ষমা ও মাগফিরাত, জাহান্নাম থেকে মুক্তির পরোওয়ানা – এই নেয়ামত এত সস্তায় আর কোন সময়ে নসীব হবে? আল্লাহ তাআলা কি অপূর্ব ভঙ্গিমায়-ই না বলেছেন:
وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَاوَاتُ وَالأرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ
অর্থ: আর তোমার রবের মাগফিরাত ও সেই জান্নাত লাভের জন্য পরস্পর প্রতিযোগীতা কর, যার প্রশস্ততা এ পরিমাণ যে তার মধ্যে আসমান ও জমিন ধরে যাবে। আর তা তৈরি হয়েছে মুত্তাকীদের জন্য। সূরা আলে-ইমরান – ৩:১৩৩
হাদীসে ইহতিসাবের সাথে ইবাদত করতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ, এই আশা নিয়ে যে, আল্লাহ তাআলা এই আমলের সওয়াব আমাকে দিবেন। এটাই বান্দাসুলভ আচরণ। আমরা আল্লাহ তাআলারই বান্দা, তাঁর ইবাদত করাই আমাদের জীবনের চরম ও পরম উদ্দেশ্য। রমযানে ইবাদত বাড়িয়ে দেওয়ার মধ্যে যেমন বিপুল ও বিশাল ফযীলত, তেমনি সুযোগও অনেকে বেশী, আর সহজসাধ্যও খুব।
মুমিন প্রতিযোগীতা করে – দুনিয়ার জন্য নয়, আল্লাহর পথে অগ্রসর হওয়ার বিষয়ে। সেই প্রতিযোগিতার কথাই উপরোক্ত আয়াতে বলা হয়েছে। এখন শুধু বেশি করে দোআ করা দরকার যেন রমযান আমরা পেয়ে যাই, আর তাঁর সমস্ত খায়ের-বরকত, রহমত-মাগফিরাত আমাদের ভাগ্যে জুটে যায়। হে আল্লাহ! তুমি তৌফিক দাও, এছাড়া সম্ভবই নয়। আমীন।






