আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমত পাওয়ার জন্য আমরা কে না আকাঙ্ক্ষী, এছাড়া তো দ্বীন-দুনিয়া ব্যর্থ!
আল্লাহ পাকের সাধারণ ও বিশেষ রহমত
فَمَاۤ اُوۡتِيۡتُمۡ مِّنۡ شَىۡءٍ فَمَتَاعُ الۡحَيٰوةِ الدُّنۡيَاۚ وَمَا عِنۡدَ اللّٰهِ خَيۡرٌ وَّاَبۡقٰى لِلَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَلٰى رَبِّهِمۡ يَتَوَكَّلُوۡنَ
আল্লাহ তাআলা বলেছেন (অর্থ): অতএব, তোমাদের যা কিছু দেওয়া হয়েছে (তা) শুধু পার্থিব জীবনের ভোগ্যবস্তু। আর যা কিছু আল্লাহর নিকট আছে, তাই উত্তম ও চিরস্থায়ী — তাদের জন্য যারা ঈমানদার ও যারা তাদের রবেরই উপর নির্ভর করে। সূরা শূরা – ৪২:৩৬
তাঁর সাধারণ রহমত তো আছেই — কেউ তা থেকে বঞ্চিত নয়। দুনিয়াতে বেঁচে থাকা, সুস্থতা, খাওয়া-পরা – এসব অনেক বড় রহমত, কিন্তু এগুলো সার্বজনীন। যে রহমত অন্বেষণ ও লাভে আমাদের পার্থিব ও পরকালীন জীবন সফল হবে সে রহমত হল সবিশেষ ও শ্রেষ্ঠ। ঈমান ও ইসলাম প্রাপ্তিই সেই রহমত, সেই নেয়ামত। অবহেলা আর উদাসীনতায় জীবন পার করলে মৃত্যু চলে আসবে, হারাতে হবে চিরস্থায়ী সফলতা! তাই যে রহমত আমাকে চিরকালের মুক্তি দেবে সেটি হারানো যাবে না!
মুমিন-জীবন রহমতই রহমত: তওবা করে নেক কাজ করলেই সে সফল
একজন মুমিনের জীবন আল্লাহর রহমতেই ঘেরা থাকে। মুমিন হওয়া সত্ত্বেও এটি আমরা কখনো কখনো একেবারেই বুঝি না। এর একটি সাধারণ মৌলিক কারণ হল, আমরা ইসলামের সঙ্গে সেভাবে পরিচিত হইনি। দুনিয়াতে আল্লাহর দস্তুর (নিয়ম) সম্পর্কে আমাদের ন্যূনতম সঠিক ধারণা ও জ্ঞান নেই। সেজন্য আমরা আল্লাহ তাআলা সম্পর্কে নানান অজ্ঞতাপূর্ণ ধারণা পোষণ করি। তাঁকে পূর্ণাঙ্গ চেনার তো প্রশ্নই উঠে না! কিন্তু তাই বলে যে বিশ্বাস ও ধারণা তাঁর সম্পর্কে করাই অনুচিত, তা থেকে বিরত থাকা খুবই জরুরি।
মুমিনের জীবনে আল্লাহ তাআলার রহমত নানানভাবে প্রকাশ পায়। কিছু মানুষ তাদের অতীতের দিকে তাকালে মারাত্মক আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এতটাই কলংকিত তাদের অতীত যা কিনা শুধু মনে করাই এক মহা-কষ্ট। যদি এক/দুই মিনিটও তাদের নিজ অতীত মনে পড়ে যায়, লজ্জা, গ্লানি, ক্ষোভে তারা হয়ে যায় একাকার।
কিন্তু আল্লাহ তাআলার রহমত এমন অনেক মানুষকেও পবিত্র করেছে ও করেই থাকে। এটি তাঁর জন্য সবকিছুর মত খুবই সহজ।
যদি কোনো অমুসলিম অর্থাৎ কাফের মৃত্যুর আগে (মৃত্যুর আলামত প্রকাশের পূর্বে যেকোনো বয়সে হোক), আন্তরিকভাবে কালেমা পড়ে ইসলাম গ্রহণ করে নেয়, তাকে তো আল্লাহ মুমিন হিসেবে কবুল করে — তাহলে চিন্তা করুন! একজন মুমিন তো আল্লাহকে বিশ্বাস করেই থাকে। গুনাহ করে ফেললে সে যদি তওবাই করে নেয়, সে কিভাবে বঞ্চিত হবে? আল্লাহ তাআলার রহমতের ছায়াতেই তো সে রয়েছে!
আল্লাহ পাক বলেন:
وَمَنۡ تَابَ وَعَمِلَ صَالِحًـا فَاِنَّهٗ يَتُوۡبُ اِلَى اللّٰهِ مَتَابًا
অর্থ: আর যে তওবা করে আর নেক কাজ করে, অবশ্যই সে (তো তওবা সহকারে) আল্লাহর দিকেই ফিরেছে। সূরা ফুরকান – ২৫:৭১
তাই কারো অতীত যেমনই হোক, যে খাঁটি তওবা করলে পবিত্র হয়ে যাবে। তাই আগে যা-ই করেছি, ভুল করেছি — এ কথা স্বীকার করে তওবা করে নিতে হবে। এখন আল্লাহর নাম নিতে হবে, তাঁর পথে চলা শুরু করতে হবে। এ প্রচেষ্টাটি ধীরে-সুস্থে হোক, কিন্তু আন্তরিকতার সঙ্গে হোক — ইনশাআল্লাহ পূর্ণ সফলতা আসবে।
আল্লাহর রহমত থেকে মুমিন হতাশ হতেই পারে না
قُلْ لَّنۡ يُّصِيۡبَـنَاۤ اِلَّا مَا كَتَبَ اللّٰهُ لَـنَا ۚ هُوَ مَوۡلٰٮنَا ۚ وَعَلَى اللّٰهِ فَلۡيَتَوَكَّلِ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ
অর্থ: আপনি বলে দিন, আমাদের উপর তাই আপতিত হবে, যা আল্লাহ আমাদের কার্যনির্বাহক। আর আল্লাহর উপরই মুমিনদের ভরসা করা উচিত। সূরা তওবা – ৯:৫১
মুসলমান হতাশ হয় না। হতাশ-নিরাশ হওয়া যাবে না। আমাদের অন্যতম বড় সমস্যা হল, অল্পতেই চিন্তান্বিত হয়ে হতাশ হওয়া। নিরাশ হয়ে হাল ছেড়ে দেওয়া। এটা সম্পূর্ণ অনুচিত।
আরে ভাই, কেন হতাশ হব?! কেন নিরাশ হয়ে বসে পড়ব? কেন ইচ্ছাকৃত এ মূল্যবান জীবনকে ছুঁড়ে ফেলে দেব?!
এ জীবনটি যাঁর দান তাঁর কাছে সাহায্য চান। তিনি যেহেতু আমাকে-আপনাকে এ জীবনটি দান করেছেন, তিনি সেটি গড়তে সাহায্য করবেন। আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব হল, ভালো নিয়ত করে কাজ শুরু করা। এটিই তওবার কার্যকরী পদক্ষেপ। প্রথমে তো অনুশোচনা, তারপরই কাজ — আল্লাহর পথে প্রচেষ্টা।
গুনাহ করেও তওবা না করা আরেক গুনাহ
যদি কারো মধ্যে গুনাহর পরও হতাশা কাজ করে, সে তওবা করতে বিলম্ব করে, এ তো আল্লাহ পাকের আরেক নাফরমানি! বুঝতে হবে, এমন বান্দার শোকরে ঘাটতি রয়েছে — আল্লাহর প্রতি সে কম কৃতজ্ঞ। কৃতজ্ঞ হলে সে আল্লাহর নেয়ামত দেখত, আর আল্লাহর নেয়ামত দেখে কেউ হতাশ জীবনযাপন করতে পারে না।
অতএব, সবসময় আল্লাহর প্রতি শোকরগুযার বা কৃতজ্ঞ থাকা চাই। তাহলে আল্লাহর দানগুলো দেখে আমরা অভিভূত হব, অন্তর পুলকিত হবে। বিপদেও সবর গ্রহণ সহজ হবে। জীবনে আসবে প্রশান্তি।
গুনাহ তো মহাবিপদ! কিন্তু এর অর্থ এ নয় – গুনাহ হয়ে গেলে আর কোনো সমাধান নেই। গুনাহ থেকে সাধ্যমতন দূরে থাকতেই হবে। কিন্তু গুনাহ হয়েই গেলে তওবা করে নিতে হবে। আর তওবা এমনই এক কাজ যা গুনাহর বিষক্রিয়া উপড়ে ফেলে বা কমপক্ষে সেটা দুর্বল তো করেই! যদি কারুর মনে হয়, হায় অমুক গুনাহ করে তো আমি অনেক কিছু হারিয়েছি — কী হবে এখন আমার?! তার জন্যও এতটুকু সুসংবাদ তো আছে — এসব দুনিয়ার ক্ষতি, তুমি আল্লাহর পথে মজবুত থাকো, আখেরাতে তুমি সফলই হবে ইনশাআল্লাহ। আর দুনিয়াতে হায়াত থাকলে আল্লাহর সাহায্যও পাবে।
তাবেঈ ওয়াহহাব ইবনে মুনাব্বিহ্ তার সন্তানকে বলেন (অর্থ): হে আমার সন্তান! তুমি তাদের মত হয়ো না যারা কিনা জান্নাত আশা করে কিন্তু কোনো নেক কাজ করে না এবং দীর্ঘ দিন বাঁচবে ধরে নিয়ে তওবা বিলম্ব করে থাকে। কিতাবুত তওবা, শুয়াবুল ঈমান
লুকমান হাকীম তার সন্তানকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছেন (অর্থ): হে আমার ছেলে! তওবা করতে দেরি কোরো না, কারণ মৃত্যু হঠাৎ-ও আসতে পারে! শুয়াবুল ঈমান




