রজব শুরু হয়েছে। আমরা এখন থেকেই রমযানের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করি।
একটি খুবই দুর্বল হাদীসে রজব মাস শুরু হলে নিম্নোক্ত দোআটি পড়ার কথা আছে:
اَللّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِى رَجَبَ وَ شَعْبَانَ وَ بَلِّغْنَا رَمَضَان
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদেরকে তুমি রজব ও শা’বান মাসে বরকত দান কর এবং রমযান পর্যন্ত আমাদেরকে পৌঁছে দাও।
দোআটির অর্থ সুন্দর বিধায় উলামায়েকেরাম বলেছেন, দোআটি আমলযোগ্য।
উবাদা বিন সামেত رحمة الله عليه থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ রমযান মাস আসার পূর্বে নিম্নোক্ত দোআটি সাহাবা رضي الله عنهم এর শেখাতেন:
اَللَّهُمَّ سَلِّمْنِيْ لِرَمَضَانَ وَسَلِّمْ رَمَضَانَ لِيْ وَسَلِّمْهُ لِيْ مُتَقَبَّلاً
অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি আমাকে নিরাপত্তা দাও রমযানে (যেন সুস্থ ও নিরাপদ থেকে রমযান থেকে সম্পূর্ণ ফায়দা নিতে পারি) এবং রমযানকে নিরাপত্তা দাও আমার জন্য (যেন তার মধ্যকার অবস্থা আমার জন্য অনুকূল হয়ে যায় তা থেকে সর্বোচ্চ ফায়দা নেয়ার জন্য) এবং তা আমার জন্য কবুল করে নাও। কানযুল উম্মাল, অষ্টম খন্ড, পৃষ্ঠা: ৫৮৪, হাদীস নম্বর: ২৪২৭৭
– এই দোআটি রমযান শুরু হলে পড়তে হয়।
রজব আল আশহুর আল-হুরুমের (সম্মানিত মাস-সমূহের) অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন: (অর্থ) নিশ্চয় আল্লাহর নিকট আল্লাহর বিধানে মাসসমূহের সংখ্যা বার – যেদিন তিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন সেদিন থেকেই, তন্মধ্যে চারটি মাস মর্যাদাপূর্ণ। সুতরাং তোমরা এ মাসগুলিতে নিজেদের প্রতি জুলুম কর না। আর তোমরা সকল মুশরিকের সাথে (সর্বাবস্থায়) যুদ্ধ কর, যেরূপ ওরা তোমাদের সকলের সঙ্গে (সর্বাবস্থায়) যুদ্ধ করে। আর জেনে রাখ যে, আল্লাহ খোদাভীরুদের সঙ্গে আছেন। সূরা তওবা – ৯:৩৬
বুখারী ও মুসলিমের হাদীস অনুযায়ী, এই চারটি মাস: যুলক্বা’দা (ذوالقعدۃ), যুলহিজ্জা (ذوالحجّۃ) ও মুহররম (محرّم) এবং রজব (رجب) — এ হল, আল আশহুর আল-হুরুম।
আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ যা সম্মান করেছেন ও যাঁকে সম্মানিত বলেছেন, তার সম্মান করা ও তার সম্মান রক্ষা করা সব মুমিনের কর্তব্য। এই চার মাসে তাই বিশেষভাবে ইবাদত বন্দেগী করা ও আল্লাহ-মুখী হওয়া উচিত। বলা হচ্ছে (অর্থ): হে ঈমানদারগণ! তোমরা অসম্মান কর না আল্লাহর নিদর্শনাদির, না সম্মানিত মাসের, না কুরবানীর জন্য হেরেমে প্রেরিত পশুর…সূরা মায়েদা – ৫:২
তফসীরে উসমানীতে উল্লেখ আছে: এর অর্থ হল, এ মাসগুলোর সম্মান ও মর্যাদা (রক্ষা করা) হচ্ছে, অন্যান্য মাসের তুলনায় এই সময়ে বেশি করে নেককাজ ও তাকওয়া অবলম্বন করা এবং অসৎকর্ম ও ফেতনা-ফ্যাসাদ পরিহার করে চলায় যত্নবান হওয়া।






