রমযান যখন আসে, তখন বিশেষভাবে মুমিন কুরআন ও তার জীবন নিয়ে গভীর চিন্তা করে। যারা আল্লাহ পাকের নেক বান্দা তাদের অবস্থা তো এমন যে, কুরআন তাদের দিন ও রাতের ব্যস্ততা! মাশাআল্লাহ।
কুরআন যেহেতু রমযানে নাযিল হয়েছে, কুরআনের মর্যাদা রমযানে তো বটেই, রমযানের কাছাকাছি সময়গুলোতে সর্বসাধারণ মুমিনগণও কুরআনকে বেশি স্মরণ করে থাকে। এটিও আল্লাহ তাআলার রহমত। আলহামদুলিল্লাহ!
রোযার সঙ্গে রমযান মাসে সর্বাধিক যে কাজটি মুমিনকে ব্যস্ত রাখে সেটি হল তেলাওয়াতে কুরআন।
কুরআন মুমিনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ! কুরআন ছাড়া মুমিন এক মুহূর্ত বাঁচতে পারে না। ঈমান ছাড়া মুমিনের জীবন এক মুহূর্ত অতিবাহিত করা সম্ভব নয় — আর ঈমানের মূলই হল কুরআন।
এই কুরআনকে যে বা যারা দূরে রাখে, বা এই কুরআন থেকে যারা দূরে থাকে, তাদের বিরুদ্ধে তো স্বয়ং রহমতের নবী ﷺ আল্লাহর দরবারে অভিযোগকারী!
وَقَالَ الرَّسُوْلُ يٰرَبِّ اِنَّ قَوْمِي اتَّخَذُوْا ھٰذَا الْقُرْاٰنَ مَهْجُوْرًا
অর্থ: রাসূল ﷺ বলেন: হে আমার রব! আমার সম্প্রদায় এ কুরআনকে পরিত্যক্ত বস্তুতে পরিণত করেছে। সূরা ফুরকান – ২৫:৩০
উলামায়েকেরামের মতে এই আয়াতে কুরআনকে অবহেলার সব স্তর অন্তর্ভুক্ত! রাসুল ﷺ যদি কেয়ামতের দিন কারু বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করে বসেন, আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন, তার কী দশা হবে!
আজ দেখুন: কুরআন শিক্ষার জন্য ক্বারী, হাফেযগণ, কুরআনের ছাপা কপি, কুরআনের তালীমের (শেখার) ব্যবস্থা (মক্তব/মাদ্রাসা) কত সহজলোভ্য! এ কথা বলার অবকাশ কার আছে “কিভাবে কুরআন শিখব, সুযোগ কোথায়?!”
সারা বিশ্বের আনাচে-কানাচে প্রায় সবখানে সুযোগ! আর শুদ্ধ তেলাওয়াতে কুরআন হল কুরআনের একদম প্রাথামিক ও প্রথম হক। তাই আসুন আমরা কুরআন তেলাওয়াতে, তাঁর শুদ্ধ শেখা-শেখানোতে ও এই বিষয়ে আমাদের সংলিষ্ট সবাইকে উৎসাহ প্রদানে অগ্রসর হই, বরং প্রতিযোগিতা করি!




