Dark Mode Light Mode

দুনিয়ার হায়াত: এক অমূল্য সুযোগ

পার্থিব জীবন বা দুনিয়ার হায়াতের প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি শ্বাস অনেক অনেক দামি। কারণ, তা দেয়াই হয়েছে আখেরাতের প্রস্তুতির জন্য। কিন্তু আজ মারাত্মক অবহেলার কারণে, এ কথা বুঝে না আসার জন্য, এই অমূল্য জীবনকে আমরা নষ্ট করছি – হেলায় হারাচ্ছি।

আজ আমরা অধিকাংশ মানুষ জীবনের লক্ষ্য আর উদ্দেশ্য থেকে দূরে – বহু দূরে সরে গেছি। তাই আমাদের চিন্তা-চেতনা, কর্মকাণ্ড আর ব্যস্ততা সব হয়ে গেছে দুনিয়া-কেন্দ্রিক। দুনিয়া ছেড়ে চলে যেতে হবে, সাথে ঈমান আর আমল ছাড়া কিছুই যাবে না – এ কথাগুলো শুধুই যেন কথা। বাস্তব অবস্থা ভিন্ন। পার্থিব আরাম-আয়েশ কিভাবে আরও বাড়ানো যাবে, এ হায়াতে কী করে টাকা-পয়সা, ধন সম্পদ, মান-সম্মান, উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন আর আমদানি আরও বাড়ানো যায় – এইসব চিন্তা-চেতনা আর পরিশ্রম আমাদেরকে আখেরাত সম্পর্কে মহা উদাসীন করে রেখেছে। দেখে মনে হচ্ছে দুনিয়ার জীবনটাই সবকিছু। এখানেই থাকব, খাব, চলব, ফিরব – এখানেই জয়ী হব বা হারব – কখনই যেন মরব না। বিলাসিতা আর উচ্চাভিলাষ আমাদেরকে কেমন যেন পাগলপারা করে ফেলেছে। কী করছি, কী অর্জিত হচ্ছে, কী হারাচ্ছি – সে হিসাব দেয়া-নেয়ার কোনো চিন্তাই নেই। এরকম এক ঘোরের মধ্যে থাকা অবস্থায় ধেয়ে আসছে অবধারিত সেই মৃত্যু, যার সম্পর্কে আমাদের প্রিয় রাসূল ﷺ তাগিদ দিয়েছেন যেন আমরা সেই স্বাদ-বিনাশকারী (মৃত্যুকে) বস্তুকে বেশি বেশি স্মরণ করি।

এইতো সেদিন আমি দুনিয়াতে এসেছি। আজ আমার বয়স ….? অর্থাৎ, এতখানি সময় আমি কবরের দিকে অগ্রসর হয়ে গেছি। হায়! আমি জানিনা আর কতদিন বাকি আছে আমার হায়াত। আমিতো অমুক জিনিস পাওয়ার জন্য ব্যস্ত, অমুক কাজ করার জন্য মহা আকাঙ্ক্ষী। অথচ আমার হায়াত হয়ত সেগুলির আগেই ফুরিয়ে যাবে – সেই স্বপ্ন আর পরিকল্পনাগুলি বাস্তবায়িত হবে না কখনো। হঠাৎ করেই আসবেন মৃত্যুর ফেরেশতা। না জানি সেই সময়টা আমার জন্য কত অপ্রত্যাশিত হবে। না জানি সেই মুহূর্তে আমি কতটা অপ্রস্তুত থাকব। কিন্তু উপায় কিছুই থাকবে না। ……..তারপর মৃত্যু যন্ত্রণা, তারপর কবর, তারপর অন্ধকার, সেখানে হবে অগ্নিপরীক্ষা……। (হে আল্লাহ! তোমার আশ্রয় চাই আমরা সবাই। আমীন।)

পবিত্র কুরআন ও হাদীস আমাদের সামনে। সতর্কবাণীতে আল্লাহ তাআলা ও তাঁর প্রিয় রাসূল ﷺ -এর কথাগুলো ভরা। কিন্তু সেদিকে লক্ষ্য করার সময়ই হয় না আমাদের। কারণ, সময়কে আমি নিজের মনে করেছি। এই জীবনকে আমি নিজের মনে করেছি। যা-ই আমি পেয়েছি, মনে করছি সব আমার নিজের। এই সময়, এই জীবন আর যত কিছুই আমি পেয়েছি – সবই আল্লাহ তাআলার। সবকিছু তিনিই আমাকে দিয়েছেন – বড় মায়া করে তিনি আমাকে সবকিছু দিয়েছেন। সুতরাং আমি যেন আল্লাহ তাআলার দেয়া এই জীবন, সময় ও নেয়ামতগুলোর কদর করি। এগুলোকে হেলায় হারিয়ে নিজের উপর জুলুম না করি। এই অমূল্য সম্পদকে হেলায় হারালে ক্ষতিটা নিজেরই হবে; আর সে ক্ষতিটাও হবে অপূরণীয়।

আল্লাহ তাআলা সুরা কিয়ামাহর মধ্যে বলেছেন (অর্থ): (কেয়ামতের সময়) তখন মানুষ বলবে, আজ পালিয়ে যাওয়ার জায়গা কোথায়? না, না; কোনো আশ্রয়স্থল থাকবে না। সেই দিন প্রত্যেককে তোমার প্রতিপালকের কাছে গিয়েই অবস্থান নিতে হবে। সূরা কিয়ামাহ – ৭৫:১০-১২

অতএব, ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিয়্যূন অর্থাৎ, ‘নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহ তাআলার জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁর কাছেই ফিরে যাব’ – শুধু কথায় নয়, প্রমাণ করতে হবে আমাদের চিন্তা-প্রচেষ্টা-কাজে, হায়াত থাকতেই।

আমাদের সকল আপডেট পেতে সাবস্ক্রাইব করুন!

By pressing the Subscribe button, you confirm that you have read and are agreeing to our Privacy Policy and Terms of Use
Add a comment Add a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fourteen + seventeen =

Previous Post

ধোঁকা থেকে বাঁচতে হবে

Next Post

ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি