মুহাম্মাদ ﷺ আল্লাহ তাআলার প্রেরিত সর্বশেষ রাসূল: আর কোনো নবী-রাসূল আসবেন না – পর্ব:১
আমাদের প্রিয় নবীজী ﷺ বলেছেন (অর্থ): নবী-রাসূলগণের মধ্যে আমার উদাহরণ হল, একটি বাড়ি নির্মাণের সর্বশেষ পর্যায়ে একটি ইট স্থাপন বাকি ছিল। যে কেউ তাতে প্রবেশ করে বিস্মিত হয়ে বলে, “কত সুন্দর কিন্তু ঐ একটি ইট পূর্ণ হয়নি!” এখন আমি হলাম সেই ইটটি সদৃশ: যার মাধ্যমে নবুয়তের অর্থাৎ নবী আগমনের ধারাবাহিকতা সমাপ্ত হয়েছে। বুখারী
নিঃসন্দেহে মুহাম্মাদ ﷺ আল্লাহ তাআলার প্রেরিত সর্বশেষ রাসূল। উনার মাধ্যমে নবুয়তের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। মুহাম্মাদ ﷺ সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ রাসূল, তারপর কেউ কোনোভাবে নবী হিসেবে আর আসবে না। এতে (অর্থাৎ মুহাম্মাদ ﷺ-এর সর্বশেষ নবী হওয়া নিয়ে) সামান্যতম সন্দেহ বা অন্য কোনো চিন্তা এ বিশ্বাসের সাথে যুক্তকরণ, যেমন, উনা ﷺ’র পর কোনো ছায়া-নবী আসবে — অথবা এমন কোনো বিশ্বাস লালন (যেমন, কাদিয়ানীদের আছে) করলে সেটা অবশ্যই ‘কুফুর’ — ইসলাম থেকে সম্পূর্ণ বের হয়ে যাওয়াই একমাত্র পরিণতি। আর এই বিশ্বাস লালন করে মৃত্যুবরণকারী কেয়ামতের দিন ঐসব চরম হতভাগ্যদের অন্তর্ভুক্তই হবে যাদের জন্য চিরকাল জাহান্নামে অবস্থানে ফয়সালা শোনোনো হবে। তাদের তো ঈমানই নেই, কোনো আমল গ্রহণ হওয়া তো বহু দূরের কথা! (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক)
উপরের কথাগুলো অত্যন্ত সহজ-সরল ও ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের একেবারে গোঁড়ার কথা। তারপরও প্রতিনিয়ত অনেক মুসলমান আজ কুচক্রী কাফিরদের ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছে। মূল কারণ, মুসলমান হয়েও অনেকে ইসলাম সম্পর্কে জানো না, ইসলাম সম্পর্কে মুসলমানদেরই এক বৃহত্তর জনগোষ্ঠী ‘মহা-অজ্ঞ’ — কথাটি বললে মনে হয় না বাড়াবাড়ি হবে!
মুসলমানদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর সাধারণ প্রশ্নের ধরণ হল, “কোথায় আছে..” বা “কিভাবে নিশ্চিত হলেন..” — এই জাতীয়।
অজ্ঞ হওয়ার কয়েক ধরণ আছে! কেউ যদি নিচের শ্রেণিতে পড়ালেখা করে আর তাকে উপরের শ্রেণির প্রশ্ন করা হয় সেটা একরকম। আমাদের মুসলমানদের ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতার দুর্দশা এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, তাকে প্রাথমিক প্রশ্নেই ঘায়েল হয়ে যেতে হচ্ছে! এমন বহু সাধারণ মুসলমান, সমাজের মধ্যে সাধারণ শিক্ষার মানদন্ডে শিক্ষিত হোক বা অশিক্ষিত, তাদেরকে ইসলামের মৌলিক প্রশ্নের সম্মুখীন করেই বিভ্রান্তিতে ফেলা হচ্ছে কারণ, তারা তো ইসলামের প্রাথমিক শিক্ষাতেই শিক্ষিত নয়!!
চিন্তা করুন! মুহাম্মাদ ﷺ আল্লাহ তাআলার প্রেরিত সর্বশেষ রাসূল — এটিও এখন অনেক মুসলমানের(?!) কাছে একটি বিভ্রান্তির বিষয় (আল্লাহর আশ্রয় চাই)! ঈমান কোথায় পৌঁছলে কারো অবস্থা এমন হতে পারে!
এখন মনে করুন, যার জ্ঞান, বিশ্বাস সবই কোনো ব্যাপারে হালকা, তাকে যদি একটু দুনিয়ার লোভ দেখানো যায়, তাহলে তাকে আর পায় কে!? সে চিন্তা করবে, হাঁ আমার জ্ঞান আর বিশ্বাস সেদিকেই ধাবিত করব যেদিকে আমার দুনিয়ার স্বার্থ ‘বেশি’ উদ্ধার হবে! সে চিন্তা করবে, এটাই তো আমার জীবনে সফল হওয়ার এক বড় সুযোগ! এতদিন এই পথে চলে তো তেমন কিছু করতে পারলাম না, এখন একটু ঐ পথে চলে দেখি!
মনে রাখবেন, দুনিয়া অথবা আখেরাতের কোনো বৃহত্তর স্বার্থ যখন প্রাধান্য পায়, তখন মানুষ ঐ স্বার্থ অর্জন বা রক্ষার জন্য সব ত্যাগ করতে প্রস্তুত হয়ে যায়। যার স্বার্থ দুনিয়া সে আখেরাত ত্যাগ করে বসে। যার স্বার্থ আখেরাত সে দুনিয়া ত্যাগ করে। এক্ষেত্রে এমন পরীক্ষা আসতে পারে যে, ঈমান ও কুফুরের মধ্যে একটি ধরতে হয়, অপরটি তখন এমনিতেই পরিত্যাজ্য হয়ে যায়।
প্রতিটি ঈমানদারকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে! এমন যেন না হয় যে, দুনিয়ার স্বার্থ রক্ষায় অমূল্য ঈমান ত্যাগ করা হবে, চিরকালের জন্য জাহান্নামকে বানানো হবে ঠিকানা! এর চেয়ে লাঞ্ছনা আর দুর্ভাগ্যের কিছুই নেই!
আজকে কাফের-মুশরিক মুসলমানদের ঈমান নিয়ে যে ছিনিমিনি খেলার প্রয়াস পাচ্ছে, তার অন্যতম কারণ (বৃহত্তরভাবে) আমাদের মুসলমানদেরই অবহেলা। আমাদের অবহেলা নিজে দ্বীন-শেখায়, অধীনস্থদের দ্বীন শেখানোতে ও আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ-এর আদেশ-নিষেধ পালনে(!)
এক হল, জীবনকে আল্লাহর জন্য তৈরি করা। আরেক হল, জীবনকে দুনিয়ার জন্য তৈরি করা। যারা মনের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেয় তারা দুনিয়ার জন্যই নিজেকে প্রস্তুত করে। তাদের সর্বোচ্চ ত্যাগ ও কষ্ট আল্লাহর পথে হয় না, দুনিয়ার সম্পদ, ক্ষমতা ও সম্মান লাভের জন্য হয়ে থাকে। তাদের পক্ষে নিজের জীবনকে মূল্যায়ন করা বলুন অথবা তার অধীনস্থদের জীবনকে মূল্যায়ন করা বলুন — আখেরাতের জন্য নয়, কেবল দুনিয়ার জন্য। যদি আখেরাতের চিন্তা কিছু থাকেও, অতি সামান্য। দুনিয়ার কোনো সমস্যা চলে আসলে সেটা সমাধানের লক্ষে, সেটিও ত্যাগ করা কোনো বড় ব্যাপার হয় না! কারণ, এমন ব্যক্তির স্বপ্ন, পরিকল্পনা, চিন্তা, কাজের কেন্দ্রবিন্দু হল দুনিয়া। দুনিয়ার লাভই তার কাছে লাভ, দুনিয়ার ক্ষতিই ক্ষতিই।
মুহাম্মাদ ﷺ আল্লাহ তাআলার প্রেরিত সর্বশেষ রাসূল। আমরা তারই উম্মত! এ কথা একজন মুসলিম যদি ‘শুধুই’ মুখে দাবী করে সেটা যথেষ্ট নয়। সেটা যথেষ্ট নয় তাকে আল্লাহ তাআলার আযাব থেকে বাঁচাতে। তাত্ত্বিকভাবে অনেক আমরা অনেক কিছু বলে ফেলি। বান্দার প্রতি আল্লাহ তাআলার আদেশ হল, কথায় ও কাজে সেটি করে দেখাতে হবে। অন্তরের কী বিশ্বাস লালন করছি অথবা করতে চাচ্ছি — সবই তিনি জানেন। তাঁকে ফাঁকি দেওয়ার কোনো উপায় নেই। কুরআনের কোনো অপব্যাখ্যা, হাদীসের কোনো ভিন্ন অর্থ করে ষড়যন্ত্রকারীরা ক্রমাগত জাল ফেলছে, ফাঁদ পাতছে! সেই ফাঁদে মুসলমানের সন্তান পা দিচ্ছে। কেন?! দুটো প্রধান কারণ বলা হল উপরে, অজ্ঞতা ও অবহেলা। দ্বীন তথা ইসলামের ব্যাপারে অজ্ঞতা, দ্বীনের ব্যাপারে অবহেলা।
ইনশাআল্লাহ চলবে
Last Updated on May 2, 2024 @ 4:10 pm by IslamInLife বাংলা