হতাশা নয়: বার বার তওবাই সফলতার পথ
আল্লাহ তাআলার পথে প্রচেষ্টায় খুব ছোট ছোট কদমও অনেক বড়। হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই।
দেখেন না, যদি ১০০ বছর কুফরির ভেতর থাকার পর কেউ ঈমান আনে তাকে কিভাবে ক্ষমা করা হয়?! কারণ আল্লাহ তাআলার রহম ও করম সীমাহীন!
আমরা বার বার গুনাহ করার পরও তওবা করব। আশা-উৎসাহ হারাব না ইনশাআল্লাহ। দেখতে হবে কোন পথে হোঁচট খাচ্ছি।
এটা তো সুমহান সেই রাজপথ। আল্লাহ পাকের পথে হোঁচট খাওয়া কি কম সৌভাগ্যের বিষয়? না ভাই। দুনিয়ার পথে হোঁচট খেয়ে মানুষ কত আফসোস করে, কত রকম পাগলামি করে, কত বার চেষ্টা-তদবির করে। বিফল হলেও সেই চেষ্টার কথা কিভাবে বলতে থাকে। আর মুমিনতো আল্লাহকে লাভ করার জন্য হোঁচট খাচ্ছে। সে চাচ্ছে পাক্কা নামাযি হতে, নামায কাযা না করতে। সে চাচ্ছে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে। সে চাচ্ছে আরো বেশি নেক কাজ করতে। কিন্তু বার বার সে হোঁচট খায়। এই শুরু করে, এই আবার হোঁচট খায়। জামআত ছুটে যায় বা কোনো গুনাহ হয়ে যায়।
কিসের চিন্তা?! পথ তো আল্লাহর? তওবাতো করা হচ্ছে? বার বার তওবাই হোক। কান্না হোক। আফসোস হোক। কান্না না আসলে কান্নার ভান হোক। তবু এ পথই আল্লাহ’র পথ। এ পথেই তাঁকে পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।
বান্দা যখন বার বার আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা চাবে ও তওবা করবে আল্লাহ তাআলার রহমত বার বার বান্দার ওপর পড়বে। ফলে বান্দার অন্তর গুনাহমুখীতা থেকে আল্লাহমুখী হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। এটা আল্লাহ তাআলার দান। শর্ত হল হতাশ হওয়া যাবে না। বার বার এবং বার গুনাহ থেকে তওবা করতে হবে। প্রতিটি তওবা খাঁটি হতে হবে। পরে তওবা ভাঙবে – এ ভয়ে তওবা থেকে বিরত থাকলে হবে না। তওবা করেই বার বার আমাকে আল্লাহর দিকে ফিরতে হবে। তাঁর করুণা ও ক্ষমার দিকে ফিরতে হবে। এটাই বান্দার কাজ। ইনশাআল্লাহ বান্দা শীঘ্রই আল্লাহ তাআলা’র অশেষ রহমতপ্রাপ্ত হবে।
আমাদের কাছে বিশ্বস্ত সূত্রে একটি ঘটনার বর্ণনা এসেছে। আরবের এক যুবক ভাই সিগারেট খেত। নামায পড়ত সময় মত। কিন্তু সে তওবায় অভ্যস্ত ছিল। তার অন্তরে অনুশোচনা ছিল। মৃত্যু হল। কবর হল জান্নাতুল বাকী – মাদীনা মুনাওয়ারার সুবিখ্যাত কবরস্থানে। এতে কী বোঝা গেল? বান্দা তওবার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার অনেক কাছে পৌঁছে যায়। সেটা অন্যরা টেরও পায় না। অতএব আমরা যেন হতাশ না হয়ে যাই। আল্লাহ তাআলা’র পথে খুব দৃঢ়ভাবে চলতে থাকি। বিপদে আপদে, নানান অবস্থায় যেমন তাঁকে ডাকি, গুনাহ হলে তাঁকেই ডাকি। তাঁর কাছে বিনীতভাবে ক্ষমা চেয়ে নেই।
Last Updated on November 26, 2023 @ 8:05 am by IslamInLife বাংলা